এই সিঁড়ি – রফিক আজাদ

এই সিঁড়ি – বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এই কবিতাটি লিখেছেন “রফিক আজাদ” ।

 

এই সিঁড়ি - রফিক আজাদ
এই সিঁড়ি – রফিক আজাদ

 

রফিক আজাদ ১৯৭২ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত বাংলা একাডেমির মাসিক সাহিত্য পত্রিকা উত্তরাধিকার এর সম্পাদক ছিলেন। রোববার পত্রিকাতেও রফিক আজাদ নিজের নাম উহ্য রেখে সম্পাদনার কাজ করেছেন। তিনি টাঙ্গাইলের মওলানা মুহম্মদ আলী কলেজের বাংলার লেকচারার ছিলেন। কাজ করেছেন বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন, উপজাতীয় কালচারাল একাডেমি ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে। রফিক আজাদের প্রেমের কবিতার মধ্যে নারীপ্রেমের একটা আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। ফিক আজাদ ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ১৯৭১ সালে কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কাদেরিয়া বাহিনীর হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এই কবি।

 

এই সিঁড়ি – রফিক আজাদ

 

এই সিঁড়ি নেমে গেছে বঙ্গোপসাগরে,

সিঁড়ি ভেঙে রক্ত নেমে গেছে –

বত্রিশ নম্বর থেকে

সবুজ শস্যের মাঠ বেয়ে

অমল রক্তের ধারা বয়ে গেছে বঙ্গোপসাগরে।

মাঠময় শস্য তিনি ভালোবাসতেন,

আয়ত দু’চোখ ছিল পাখির পিয়াসী,

পাখি তাঁর খুব প্রিয় ছিল –

গাছ-গাছালির দিকে প্রিয় তামাকের গন্ধ ভুলে

চোখ তুলে একটুখানি তাকিয়ে নিতেন,

পাখিদের শব্দে তাঁর, খুব ভোরে, ঘুম ভেঙে যেত।

স্বপ্ন তাঁর বুক ভরে ছিল,

পিতার হৃদয় ছিল, স্নেহের-আর্দ্র চোখ –

এ দেশের যা-কিছু তা হোক না নগণ্য, ক্ষুদ্র

তাঁর চোখে মূল্যবান ছিল –

নিজের জীবনই শুধু তাঁর কাছে খুব তুচ্ছ ছিল;

স্বদেশের মানচিত্র জুড়ে পড়ে আছে

বিশাল শরীর …

তাঁর রক্তে এই মাটি উর্বর হয়েছে

সবচেয়ে রূপবান দীর্ঘাঙ্গ পুরুষ

তাঁর ছায়া দীর্ঘ হতে হতে

মানচিত্র ঢেকে দ্যায় সস্নেহে আদরে

তাঁর রক্তে প্রিয় মাটি উর্বর হয়েছে –

তাঁর রক্তে সবকিছু সবুজ হয়েছে।

এই সিঁড়ি নেমে গেছে বঙ্গোপসাগরে,

সিঁড়ি ভেঙে রক্ত নেমে গেছে –

স্বপ্নের স্বদেশ ব্যেপে

সবুজ শস্যের মাঠ বেয়ে

অমল রক্তের ধারা বয়ে গেছে বঙ্গোপসাগরে।

 

রফিক আজাদ 3 এই সিঁড়ি - রফিক আজাদ

 

এই সিঁড়ি  কবিতা আবৃত্তি ঃ

 

 

Competitive Exams Preparation Gurukul, GOLN Logo [ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি গুরুকুল, লোগো ]

মন্তব্য করুন