বাঙলায় তত্ত্বসাহিত্য – আহমদ শরীফ

বাঙলায় তত্ত্বসাহিত্য – আহমদ শরীফ : জগৎ ও জীবন সম্পর্কে কোনো মানুষই উদাসীন থাকতে পারে না। জীবন ভাবনা ও জগৎ-রহস্য তাকে জন্মকাল থেকেই বিচলিত রাখে। তার মনের কৌতূহল ও জিজ্ঞাসা সে তার জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়ে চরিতার্থ করার প্রয়াসী। যে-কোনো জিজ্ঞাসার মনোময় উত্তর খোঁজা ও তৃপ্তিকর একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছা তার পক্ষে তার আত্মার আরামের জন্যে আবশ্যিক হয়ে ওঠে। এই অর্থেই মানুষমাত্রই দার্শনিক। কিন্তু আদ্যিকালের ভয়, বিস্ময় ও কল্পনাপ্রবণ অজ্ঞ মানুষ স্থূলবুদ্ধি ও মোটা কল্পনা দিয়ে জগৎ ও জীবন, সৃষ্টি ও সৃষ্টা এবং বিশ্ব-নিয়মের কার্যকারণ সম্পর্কে যেসব মীমাংসায় ও সিদ্ধান্তে উপনীত হল, কুচিৎ উপলব্ধির চমকপ্রদ কিছু দীপ্তি থাকলেও তার মধ্যে তথ্য যেমন বিরল, চিন্তা ও যুক্তির স্থূলতা এবং অসারতাও তেমনি প্রকট।

বাঙলায় তত্ত্বসাহিত্য - আহমদ শরীফ
বাঙলায় তত্ত্বসাহিত্য – আহমদ শরীফ [ Ahmed Sharif (1921–1999) ]
সব মানুষের বুদ্ধি-বিবেচনা, রুচি-কৌতূহল একরকমের নয়, এক মাপেরও নয়। তাই মানুষের রহস্য-চেতনা এবং তার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত বিভিন্ন ও বিচিত্র রূপ লাভ করেছে। দেশে দেশে, কালে কালে, গোত্রে গোত্রে ও শাস্ত্রে শাস্ত্রে তাই মানুষের তত্ত্ববুদ্ধি বহু ও বিচিত্র হয়ে প্রকাশ ও বিকাশ পেয়েছে। বহু যুগের বহু মানবের অনবরত প্রয়াসে ও মননশক্তির উৎকর্ষে এবং জ্ঞানবিজ্ঞানের প্রসারে জগৎ ও জীবন, সৃষ্টি ও স্রষ্টা সম্পর্কিত তত্ত্বচিন্তা কয়েকটি বিশেষ সূত্রে সংহত হলেও, তা কখনো সর্বমানবিক কিংবা সর্বসম্মত তত্ত্বের মর্যাদা পায়নি। কখনো পারেও না হয়তো। তাই দর্শনমাত্রই বিতর্কিত ও তর্কসাপেক্ষ বিষয়। সীমিত শক্তির ইন্দ্রিয় দিয়ে অতীন্দ্রিয়ের ধারণা কখনো পূর্ণ ও নির্ভুল হতে পারে না। তাই দর্শনে তথ্য ও তত্ত্ব বিমিশ্র হয়ে অভিন্ন সত্য হয়ে ওঠে না।

দার্শনিক যুক্তিও তাই প্রায়ই একদেশদর্শিতা দোষে দুষ্ট। অদৃশ্যকে কথা দিয়ে দৃশ্যমান করা, অধরাকে বাচাতুর্যে ধরা, অবোধ্যকে যুক্তি দিয়ে বোধগত করা— পুতুলে হাত পা-চোখ বসিয়ে প্রাণপ্রতিষ্ঠার দাবি করার নামান্তর মাত্র। তবু জীবন-চেতনা ও জগৎ জিজ্ঞাসা মানুষমাত্রেরই স্বভাবজ বলে মানুষ রহস্য আবিষ্কার প্রয়াসে চিরঅক্লান্ত। কেননা ক্ষণে ক্ষণে সে অনুভব করে জীবনের মূল রয়েছে কোনো এক রহস্যলোকে, গতি হচ্ছে এক অদৃশ্যজগতে এবং সম্ভাবনা তার বিপুল ও অনন্ত। তাই অসীমের সীমা খোঁজা, অজানাকে জানা, অদৃশ্যকে দেখা তার চির অসাফল্যে বিড়ম্বিত মায়াবী আকাঙ্ক্ষার অন্তর্গত। অকূলে কূল পাবার, অসীমের সীমা খোঁজার, অরূপের রূপ দেখার আকুলতা প্রকাশেই এর সার্থকতা। কেননা এতেই আত্মার আকুতি আনন্দময় প্রয়াসে নিঃশেষ হবার সুযোগ পায়।

ইরানী কবির জবানীতে জগৎ হচ্ছে একটি ছেঁড়া পুথি—“এর আদি গেছে হারিয়ে, অন্ত রয়েছে অলেখা।” কাজেই এর আদি-অন্তের রহস্য কোনোদিনই জানা যাবে না। তবু অবোধ মন বুঝ মানে না তাই ঘরও নয় গন্তব্যও নয়; পথে নেমে, পথ চলে, পথের দিশা খুঁজে, পথ বাড়ানোর খ্যাপামি তাকে পেয়ে বসে। এই মোহময়ী মরীচিকাই দিগন্তহীন আকাশচারিতার আনন্দে অভিভূত রাখে। জীবনে এই আকাঙ্ক্ষার প্রদীপ্ত আবেগ, এই আনন্দিত অভিভূতিই যথার্থ লাভ। কেননা বিবেকের বোধনে, আত্মার উৎকর্ষসাধনে ও বিকাশে এবং শ্রেয়সে উত্তরণে এই ভাব, চিন্তা ও অনুভব উপলব্ধিই পুঁজি।

বাঙলায় তত্ত্বসাহিত্য - আহমদ শরীফ
বাঙলায় তত্ত্বসাহিত্য – আহমদ শরীফ [ Ahmed Sharif (1921–1999) ]

জগৎ ও জীবনের নিয়ামক ও তাৎপর্য সন্ধান করতে যেয়ে মানুষ সৃষ্টি করেছে ভূত প্রেত, দেও-দানু, জীন-পরী, দেবতা-অপদেবতা, হুর-গন্ধর্ব-অপ্সরা, স্বর্গ-নরক, পাপ পুণ্য প্রভৃতির হাজারো বিশ্বাস-সংস্কার-সমন্বিত ইমারত। এর মধ্যেই নিশ্চিত বিশ্বাসে নিশ্চিন্ত সুস্থিরতায় স্বস্থ জীবনধারণের আশ্বাসে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বাস্থ্য উপভোগে প্রয়াসী। এমনি করে জীবনকে অজানা থেকে অসীমতায় প্রসারিত করে মানুষ তার যৌথ জীবনে ও জীবিকায় নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য সাচ্ছল্য কামনা করেছে। তারই ফলে বিবর্তিত ও বিকশিত হয়েছে শাস্ত্র, সমাজ, সংস্কৃতি ও সভ্যতা।

গড়ে উঠেছে জাত-ধর্ম রাষ্ট্র, আনুষঙ্গিকভাবে এসেছে ঈর্ষা-অসূয়া-ঘৃণা, প্রীতি-সেবা ত্যাগ। মানুষ হয়েছে ইষ্ট ও অরি। বহু যুগের বহু মানুষের সাধনায় ও দ্বন্দ্বে-মিলনে মানবসমাজ আজকের স্তরে উত্তীর্ণ হয়েছে— যদিও সব মানুষের ও সব সমাজের বা গোত্রের উত্তরণ সমপর্যায়ের নয়। আদিম আরণ্য-মানব যেমন রয়েছে, তেমনি প্রাগ্রসর মানুষেরও অভাব নেই। তার কারণ, সব মানুষের প্রতিবেশ ও মনন-শক্তি সমভাবে বিকাশ-পথ পায়নি। স্থূল চিন্তার স্বাক্ষর আজো তাই প্রকট। বিশেষ করে শাস্ত্রীয় চিন্তার স্থূলতা ও সংস্কার থেকে অধিকাংশ মানুষ মুক্ত নয় বলে মানবভাগ্য ও তার জীবন-জীবিকার যন্ত্রণা, তার শাসন পেষণ-শোষণের বিকার আজো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। দ্বন্দ্ব-সংঘাত-সংঘর্ষও রয়েছে পূর্ববৎ।

শহীদ মিনার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ [ Shaheed Minar ]

তবু মানবভাগ্যের নিয়ামক নিয়ন্তা হিসেবে দর্শন ও দার্শনিকের ভূমিকা কখনো গুরুত্ব হারাবে না। মানবপ্রগতি চিরকালই তত্ত্বচিন্তার প্রসূন হয়ে থাকবে। কেননা মানুষ বাঁচে প্রত্যয় ও প্রত্যাশা নিয়ে, এবং এ দুটোই জন্মে চিত্তলোকে। এগুলো যুক্তিজাত নয়, বাঁচার গরজপ্রসূত। জন্ম-মৃত্যুর পরিসরাতীত অনন্ত জীবনতৃষ্ণাই মানুষকে প্রত্যয়ী ও প্রত্যাশী রাখে।

বাংলাদেশের মুসলমানের তত্ত্বচিন্তা তিন ধারায় প্রকাশিত হয়েছে : ক. শাস্ত্র-সংলগ্ন রচনায় তথা ধর্ম-সাহিত্যে খ. যোগতাত্ত্বিক চর্যাগ্রন্থে তথা সুফি সাহিত্যে এবং গ. সওয়াল সাহিত্যে।

বাঙলায় তত্ত্বসাহিত্য – আহমদ শরীফ

ক. ধর্ম-সাহিত্যে উল্লেখ্য হচ্ছে :

১৬ শতক:

শেখ মুত্তালিবের (১৬৩৯ খ্রি:) কিফায়তুল মুসল্লিন, আলাউলের (১৬৬৪ খ্রি:) তোফা।

১৭ শতক:

নেয়াজ ও পরানের (১৭ শতক) কায়দানি কেতাব, খোন্দকার নসরুল্লাহর (১৭ শতক) হেদায়তুল ইসলাম, শরীয়ৎ নামা, আশরাফের (১৭ শতক) কিফায়তুল মুসল্লিন।

১৮ শতক:

খোন্দকার আবদুল করিমের (১৮ শতক) হাজার মসায়েল, আবদুল্লাহর (১৮ শতক) নসিয়ত নামা, কাজী বদিউদ্দীনের (১৮ শতক) সিফৎ-ই-ইমান, সৈয়দ নাসির উদ্দীনের (১৮ শতক) সিরাজ সবিল, মুহম্মদ মুকিমের (১৮ শতক) ফায়দুল মুবতদী, বালক ফকিরের (১৮ শতক) ফায়দুল মুবতদী, সৈয়দ নুরুদ্দীনের (১৮ শতক) দাকায়েকুল হেকায়েক, মুহম্মদ আলীর (১৮ শতক) হায়রাতুল ফিকাহ, হায়াত মাহমুদের (১৮ শতক) হিত জ্ঞানীবাণী, আফজল আলীর (১৮ শতক) নসিয়তনামা প্রভৃতি।

এসব গ্রন্থের সব কথা কোরআন-হাদিস-অনুগ নয়, সদুদ্দেশ্যে বানানো নানা কথাও রয়েছে। দৈশিক ও লৌকিক বিশ্বাস-সংস্কারের প্রভাবও প্রবল। শাস্ত্রকথার সঙ্গে মিশে রয়েছে সৃষ্টিতত্ত্ব, অধিবিদ্যা এবং দ্বৈতাদ্বৈত তত্ত্ব প্রভৃতি। এসব গ্রন্থে সাধারণভাবে স্রষ্টার প্রতি মানুষের শাস্ত্রসম্মত আনুগত্য, দায়িত্ব ও কর্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তির নৈতিক, পারিবারিক ও সামাজিক তথা মানবিক আচার-আচরণবিধি আলোচিত হয়েছে।

খ. সূফী-সাহিত্যে মূল্যবান রচনা হচ্ছে :

১৬ শতক:

ফয়জুল্লাহর (১৬ শতক) গোরক্ষ বিজয়, অজানা লেখকের যোগকলন্দর, মীর সৈয়দ সুলতানের (১৬ শতক) জ্ঞান প্রদীপ জ্ঞানচৌতিশা, হাজী মুহম্মদের (১৬ শতক) সুরতনামা বা নূরজামাল।

১৭ শতক:

মীর মুহম্মদ সফীর (১৭ শতক) নূরনামা, শেখ চান্দের (১৭ শতক) হর-গৌরী সম্বাদ ও তালিবনামা, নিয়াজের (১৭ শতক) যোগকলন্দর, আবদুল হাকিমের (১৭ শতক) চারি মোকামভেদ ও শিহাবুদ্দীন নামা।

১৮ শতক:

আলীরজার (১৮ শতক) আগম ও জ্ঞানসাগর, বালক ফকিরের (১৮ শতক) জ্ঞান চৌতিশা, মোহসীন আলীর (১৮ শতক) মোকামমঞ্জিল কথা, শেখ জাহিদের (১৭ শতক) আদ্য পরিচয়, শেখ জেবুর (১৮ শতক) আগম, শেখ মনসুরের (১৮ শতক) সিনামা।

১৯ শতক:

রমজান আলীর (১৯ শতক) আদ্যব্যক্ত, রহিমুল্লাহর (১৯ শতক) তন-তেলাওত ও সিহাজুল্লাহর যুগীকাচ।

যোগচর্যা-নির্ভর অধ্যাত্মসাধনার কথাই এসব গ্রন্থে আলোচিত। এসব গ্রন্থে বৌদ্ধ ও ব্রাহ্মণ্য দেহতত্ত্ব এবং সুফির ফানা, বৌদ্ধ নির্বাণ আর অদ্বৈততত্ত্ব প্রভৃতি উচ্চ ও সূক্ষ্ম দার্শনিক প্রত্যয়গুলির ইঙ্গিত রয়েছে। শেখ ফয়জুল্লাহ, হাজী মুহম্মদ, সৈয়দ সুলতান, আলী রজা ও শেখ চান্দ অধ্যাত্মদর্শনে পণ্ডিত ছিলেন। বিশেষ করে শেখ ফয়জুল্লাহ, হাজী মুহম্মদ ও আলী রজা ছিলেন। ও সূক্ষ্ম মননশক্তির অধিকারী। অধ্যাত্মসাধনার ও সিদ্ধির তথা মারিফৎ পন্থা ও চর্যার তত্ত্ব এবং সে-সূত্রে সৃষ্টিতত্ত্ব, দেহতত্ত্ব, স্রষ্টাতত্ত্ব মোক্ষতত্ত্ব প্রভৃতিই এসব গ্রন্থের মূল আলোচ্য বিষয়। এতেও বিশ্বাস-সংস্কারের প্রবলতা যেমন প্রকট, তেমনি ইসলামি ও বৌদ্ধ-হিন্দুয়ানি তত্ত্বচিন্তা আর সাধনতত্ত্বের অসঙ্গত ও অসমঞ্জস মিশ্রণও অবিরল।

এ ছাড়া প্রণয়োপাখ্যানগুলোতেও কোনো-না-কোনো প্রসঙ্গে যোগী ও যোগচর্যা এবং অধ্যাত্মতত্ত্ব আলোচিত হয়েছে। অভেদ বা অদ্বৈততত্ত্ব প্রায় সব বাঙালী তথা ভারতিক মুসলমানের মন হরণ করেছিল। প্রণয়োপাখ্যানে এবং মুসলিম-রচিত রাধাকৃষ্ণ পদে ও বাউল গানে আহাদ ও আহমদকে প্রায় সর্বত্র অভিন্ন করে দেখা হয়েছে। সৃষ্টিতত্ত্বেও আল্লাহর নূরে মুহম্মদ এবং তাঁর নূরে বিশ্বজগৎ সৃষ্টি বলে বর্ণিত হয়েছে। এতে ‘কুন ফায়াকুন’ এর নয়— ‘একোহম বহুস্যাম’ তত্ত্বের প্রভাবই সুস্পষ্ট।

গ. সওয়াল-সাহিত্যে পাই :

মুহম্মদ আকিলের (১৭ শতক) মুসানামা, খোন্দকার নসরুল্লাহ (১৭ শতক) মুসার সওয়াল, আলিরজার (১৮ শতক) সিরাজ কুলুব, শেখ সাদীর (১৭ শতক) গদামালিকার সওয়াল, এতিম আলমের (১৮ শতক) আবদুল্লাহর সওয়াল, সৈয়দ নূরুদ্দিনের (১৮ শতক) মুসার সওয়াল, অজানা কবির মুসার রায়বার, খোন্দকার আবদুল করিমের (১৭ শতক) মুসার সওয়াল, সেরবাজ চৌধুরীর (১৮ শতক) মালিকার সওয়াল বা ফকর নামা প্রভৃতি।

এসব গ্রন্থ প্রশ্নোত্তরের বা সওয়াল-জওয়াবের আকারে রচিত বলেই আমরা এগুলোকে সওয়াল-সাহিত্য নামে অভিহিত করেছি। এসব গ্রন্থে সৃষ্টি, স্রষ্টা, ইহকাল পরকাল, পাপ-পুণ্য, ন্যায়-অন্যায়, জীবন, সমাজ, শাস্ত্র, নীতি, আচার-আচরণ, বৈষয়িক, আত্মিক, আধ্যাত্মিক এমনকি ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক বিষয়েও নানা জিজ্ঞাসার উত্তর রয়েছে। ‘আবদুল্লাহর সওয়ালে’ ইহুদিরাজ আবদুল্লাহ কর্তৃক হযরত মুহম্মদের নবুয়ত পরীক্ষাচ্ছলে নানা তথ্য ও তত্ত্ব উপস্থাপিত হয়েছে।

গদা-মালিকা, বা মালিকার সওয়ালে রাজী মালিকা তাঁর পাণিপ্রার্থী জ্ঞানী পুরুষ হালিম বা আলিমের বিদ্যা ও বিজ্ঞতা পরীক্ষাচ্ছলে যেসব প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন, সেসবের উত্তর রয়েছে। এখানে রয়েছে হেঁয়ালি ধাঁধা থেকে নানা সাধারণ জাগতিক জ্ঞানের সন্নিবেশ। এসব গ্রন্থ সেকালের মানুষের পক্ষে জ্ঞানের আকর। সেকালের এগুলো ছিল একালের ‘লোকশিক্ষা গ্রন্থমালা’র মতো। লোক-সাধারণ এসব গ্রন্থের মজলিশি পাঠ শুনে-শুনে নৈতিক, সামাজিক, বৈষয়িক ও আধ্যাত্মিক জ্ঞান লাভ করে নিরক্ষর সমাজের সুশিক্ষিত সদস্য হয়ে উঠত। তাদের জীবন-ভাবনা ও জগৎ-জিজ্ঞাসা এসব গ্রন্থোক্ত তথ্যে ও তত্ত্বে নিবৃত্ত হত। অবশ্য সেদিন মানুষের বিচরণক্ষেত্র ছিল অঞ্চলে সীমিত। সে জীবনের পরিধি ছিল সংকীর্ণ; সে-জ্ঞানের পরসরও ছিল ক্ষুদ্র এবং জ্ঞানও ছিল খণ্ড সত্যে বা প্রাতিভাসিক সত্যে নিবন্ধ।

আকরগ্রন্থ :

পুথিপরিচিতি: আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ সংকলিত, আহমদ শরীফ সম্পাদিত,

বাঙলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত ১৯৫। ২। বাঙলার সূফী সাহিত্য : আহমদ শরীফ, বাঙলা একাডেমী প্রকাশিত : ১৯৬৯। ৩। সওয়াল সাহিত্য আহমদ শরীফ।

আরও পড়ুন:

মন্তব্য করুন