মুক্তিযুদ্ধের রচনা । Essay on Liberation War । প্রতিবেদন রচনা ও সাধারণ জ্ঞান প্রশ্নোত্তর

মুক্তিযুদ্ধের রচনা: বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাস পরিক্রমায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জন।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংস বর্বরতার মুখে ১৯৭১ সালের ২৬-এ মার্চ শুরু হয় বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম । দীর্ঘ সংগ্রামের সফল পরিণতি ও পূর্ণতা আসে সে বছরেরই ১৬ই ডিসেম্বর। এ দিন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীনিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করলে মুক্তিযুদ্ধের অবসান হয়। পৃথিবীর মানচিত্রে স্থান করে নেয় একটি স্বাধীন দেশ — বাংলাদেশ ।

মুক্তিযুদ্ধের রচনা

মুক্তিযুদ্ধের রচনা । Essay on Liberation War । প্রতিবেদন রচনা
মুক্তিযুদ্ধের রচনা । Essay on Liberation War । প্রতিবেদন রচনা

ভূমিকা :

মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির হাজার বছরে শ্রেষ্ঠ অর্জন। বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ আজ এক স্বাধীন সার্বভৌম দেশ।এ স্বাধীনতা কুড়িয়ে পাওয়া একমুঠো মুক্তো বা বদান্যতার উপহার নয়, এর রয়েছে সুদীর্ঘ রক্তঝরা ইতিহাস। এক সাগর রক্তও ত্রিশ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে এ স্বাধীনতা। মুক্তিসেনার রক্তে রঞ্জিত এক সুদীর্ঘ সংগ্রামের ফসল। আমাদেরস্বাধীনতার সঙ্গে অনেক সংগ্রামী চেতনা বিজড়িত।

মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি :

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর বাংলা ‘পূর্ব পাকিস্তান’ নামে পাকিস্তানের একটি অংশে পরিণতহয়। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগােষ্ঠী তাদের দুঃশাসন, শােষণ ও বঞ্চনার মাধ্যমে এদেশকে পাকিস্তানের একটিউপনিবেশে পরিণত করে। এমনকি পাকিস্তানি স্বৈরশাসক উর্দুকে রাষ্ট্রভাষার ঘােষণা দিয়ে আমাদের কণ্ঠরােধ করতে উদ্যতহয়।

কিন্তু এদেশের ছাত্রজনতা এমন ঘােষণায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তাদের দমাতে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতৎকালীন শাসকগােষ্ঠী ১৪৪ ধারা জারি করে এদেশের ভাষাপ্রেমী ছাত্রসমাজ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেরাজপথে নেমে আসে। পুলিশের গুলিতে নিহত হয় সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ নাম না জানা অনেকে।

নিহতেরখবরে পুরাে দেশে দুর্বার আন্দোলন গড়ে উঠে। ফলে পাকিস্তানিরা বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিতে বাধ্য হয়। এরইধারাবাহিকতায় ১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালে ছয়দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালে গণ-আন্দোলন সংঘটিত হয়।১৯৭০ সালে জেনারেল ইয়াহিয়া খান জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের ঘােষণা দেয়।

আওয়ামী লীগ ১১ দফারভিত্তিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং উভয় পরিষদেই পূর্ব পাকিস্তান সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। কিন্তু শাসকগােষ্ঠী আওয়ামীলীগের এ বিজয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে। এর ফলে সারাদেশে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠে।

মুক্তিযুদ্ধের রচনা । Essay on Liberation War । প্রতিবেদন রচনা
মুক্তিযুদ্ধের রচনা । Essay on Liberation War । প্রতিবেদন রচনা

৭ই মার্চের ভাষণ :

১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে জয়লাভ করার পর ক্ষমতাহস্তান্তর না করায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এরূপ পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান ৩রা মার্চজাতীয় পরিষদের অধিবেশন ডেকেও অপ্রত্যাশিতভাবে ১লা মার্চ তা অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি ঘােষণা করেন।

এই খবরশুনে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। অবশেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মার্চের সাত তারিখে ঢাকায়রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সােহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক জনসভায় ভাষণ দেন। ভাষণে তিনি চলমান সামরিক আইনপ্রত্যাহার, সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া, গণহত্যার তদন্ত ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের উপরগুরুত্বারােপ করেন। তার এ ভাষণ ছিল জাতির মুক্তিসংগ্রামের পূর্ণাঙ্গ দিক নির্দেশনা। তাই তিনি বলেছিলেন, “তােমাদেরযার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মােকাবিলা করবে ••••••••••

স্বাধীনতার ঘােষণা :

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের পর মুক্তিকামী জনতার আন্দোলন আরও বেগবান হয়! ২৪শে মার্চইয়াহিয়া-মুজিব বৈঠক ব্যর্থ হলে ২৫শে মার্চ গভীর রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির উপর গণহত্যা চালায়।২৫শে মার্চ রাতেই শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে করাচি নিয়ে যাওয়া হয়।

পাকিস্তানি সৈন্যদের হাতে গ্রেফতার।হওয়ার পূর্বে অর্থাৎ ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘােষণা করেন। বঙ্গবন্ধুর এ ঘােষণাদেশবাসীকে জানানাের জন্য চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা এম, এ, হান্নান ২৬শে মার্চ দুপুরে চট্টগ্রাম বেতার থেকে তা।প্রচার করেন। পরে চট্টগ্রামের কালুরঘাটে চালুকৃত স্বাধীন বাংলা অস্থায়ী বেতার কেন্দ্র থেকে ২৭শে মার্চ সন্ধ্যায় মেজরজিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার আরেকটি ঘােষণাপত্র পাঠ করেন।

মুক্তিযুদ্ধের রচনা । Essay on Liberation War । প্রতিবেদন রচনা
মুক্তিযুদ্ধের রচনা । Essay on Liberation War । প্রতিবেদন রচনা

গণপ্রজাতন্ত্রী সরকার গঠন:

১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়।১৭ই এপ্রিল মুজিবনগরে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার’ শপথ গ্রহণ।করে। রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হলেন উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মােশতাক আহমেদ, অর্থমন্ত্রী এম মনসুর আলী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলেন এএইচ এম কামরুজ্জামান। ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়। কর্নেল এম. এ. জি ওসমানীকে প্রধান।সেনাপতি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধ সংগঠন ও পরিচালনা :

২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালির উপর হামলা চালানাের পরথেকেই বিভিন্ন স্থানে বিভিন্নভাবে প্রতিরােধ গড়ে তােলা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেইতারা মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত ও পরিকল্পিতভাবে পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করে।

এ সময় সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরেভাগ করা হয় এবং প্রত্যেক সেক্টরে একজন কমান্ডারের নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনী পাক বাহিনীর উপর আক্রমণ ও সম্মুখ যুদ্ধ শুরুকরে। আবার পাক বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া অনেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে এসে গেরিলাআক্রমণ শুরু করে। দেশের আপামর জনসাধারণ মুক্তিবাহিনীকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করে। ফলে মুক্তিসংগ্রাম সর্বজনীনগণযুদ্ধে রূপান্তরিত হয়। আর এভাবে মুক্তিবাহিনীর হামলায় পাকিস্তানি বাহিনী অপদস্থ হতে থাকে।

মুক্তিযুদ্ধে বৈদেশিক সাহায্য-সহযােগিতা :

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে কয়েকটি বিদেশি রাষ্ট্র এবং বিভিন্ন সামাজিক ওসাংস্কৃতিক সংগঠন ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। পাক বাহিনীর অত্যাচারে প্রায় এক কোটি বাঙালি ভারতে আশ্রয় নেয়।ভারত সরকার এসকল উদ্বাস্তুদের খাদ্য, বস্ত্র, ঔষধ দিয়ে সাহায্য করে।

রাশিয়া সরকারসহ পূর্ব ইউরােপীয় দেশগুলােরসরকার ও জনগণ বাংলাদেশকে সহযােগিতার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী পাক বাহিনীর নির্যাতন-হত্যার বিরুদ্ধে জনমত গঠন।করে। এসময় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন দুই পরাশক্তি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও তাদের জনগণ বাংলাদেশের জনগণেরন্যায্য দাবির প্রতি একাত্মতা ঘােষণা করে। অবশেষে বৈদেশিক সাহায্য ও মুক্তিবাহিনীর নিরলস চেষ্টায় নয় মাসে বাংলাদেশস্বাধীন হয়।

মুক্তিযুদ্ধের রচনা । Essay on Liberation War । প্রতিবেদন রচনা
মুক্তিযুদ্ধের রচনা । Essay on Liberation War । প্রতিবেদন রচনামুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণ :

১৯৭১ সালের নভেম্বরের ২১ তারিখে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারএকটি যৌথবাহিনী গঠন করে। ৩রা ডিসেম্বর পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘােষণা করলে এরপর থেকে মুক্তিবাহিনী ওভারতীয় বাহিনী যৌথভাবে হানাদারদের বিরুদ্ধে লড়তে শুরু করে। ৬ই ডিসেম্বর ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকেস্বীকৃতি দান করে। যৌথবাহিনীর সুদৃঢ় আক্রমণে ১২ই ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলায় পাকবাহিনীর সবগুলাে বিমান বিপর্যস্ত হয়েপড়ে। এভাবে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণে ১৩ই ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ব বাংলার বিভিন্ন এলাকা শত্রুমুক্ত হয়।

পাকবাহিনীর আত্মসমর্পণ ও চূড়ান্ত বিজয় :

১৪ই ডিসেম্বর যৌথবাহিনী ঢাকার মাত্র ১৪ই কিলােমিটার দূরে অবস্থান করে।অবস্থা বেগতিক দেখে ১৬ই ডিসেম্বর হানাদার বাহিনীর অধিনায়ক লে. জেনারেল নিয়াজী তার ৯৪ হাজার সৈন্য ও অস্ত্রশস্ত্রসহসােহরাওয়ার্দী উদ্যানে যৌথ কমান্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে। আর এভাবেই বালাদেশের চূড়ান্ত বিজয় সূচিত হয়।

উপসংহার :

বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনাে খণ্ডিত বিচ্ছিন্ন স্বপ্ন বা কুড়িয়ে পাওয়া কোনাে বিষয় নয়। ঐক্যবদ্ধ জীবনপ্রচেষ্টা, মিলন-বিরহ, আশা-নিরাশার বাস্তব অনুভূতি সম্বলিত এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী অপরাজেয় চেতনা; মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লঙ্গমানুষের আত্মত্যাগ আর দু’লক্ষ মা-বােনদের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বিশ্বের মানচিত্রে সংযােজিত হয়েছে। আর আমরা পেয়েছিলাল-লাল সবুজের পতাকাসমৃদ্ধ বাংলাদেশ নামের একটি নতুন ও স্বাধীন ভূখণ্ড।

মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান প্রশ্নোত্তর:

প্রশ্ন: ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সামরিক অভিযানের সাংকেতিক নাম কি?

উত্তর: অপারেশন সার্চ লাইট

প্রশ্ন: শেখ মজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায় কখন?

উত্তর: ২৫ মার্চ, ১৯৭১ মধ্যরাতে।

প্রশ্ন: মুক্তিযুদ্ধ চলা কালে সমগ্র বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করেছিলেন?

উত্তর: ১১ টি।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা কোন সেক্টরের অধীনে ছিলো?

উত্তর: দুই নম্বর সেক্টর

প্রশ্ন: স্বাধীনতা যুদ্ধে কত জন বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি লাভ করেন?

উত্তর: ৭ জন।

প্রশ্ন: স্বাধীনতা যুদ্ধে কত জন বীরউত্তম খেতাব লাভ করেন?

উত্তর: ৬৮ জন।

প্রশ্ন: স্বাধীনতা যুদ্ধে কত জন বীর বিক্রম উপাধি লাভ করে?

উত্তর: ১৭৫জন।

প্রশ্ন: স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্তির সংখ্যা কত?

উত্তর: ৪২৬ জন।

প্রশ্ন: স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য মোট কতজন খেতাব প্রাপ্ত হন?

উত্তর: ৬৭৬ জন।

প্রশ্ন: মুক্তিযুদ্ধের আত্মসমর্পণ দলিল কোথায় স্বাক্ষরিত হয়?

উত্তর: রেসকোর্স ময়দানে।

প্রশ্ন: কোন বীর শ্রেষ্ঠের কোন খেতাবী কবর নেই?

উত্তর: বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন।

প্রশ্ন: বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের কবর কোথায় ছিল?

উত্তর: পাকিস্তানের করাচীর মাশরুর বিমান ঘাটিতে।

প্রশ্ন: কোন বীরশ্রেষ্ঠের কবর বাংলাদেশে ছিল না?

উত্তর: বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের।

প্রশ্ন: দুইজন খেতাবধারী মহিলা মুক্তিযোদ্ধার নাম কি ?

উত্তর: ক্যাপ্টেন সেতারা বেগম ও তারামন বিবি।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে একজন ইতালীর নাগরিক মৃত্যুবরণ করেন তার নাম কি ছিল?

উত্তর: মাদার মারিও ভেরেনজি।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে সর্বকনিষ্ঠ খেতাবধারী মুক্তিযোদ্ধা কে?

উত্তর: শহীদুল ইসলাম( লালু) বীর প্রতীক।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সর্বাধিনায়ক কে ছিলেন?

উত্তর: বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান।

প্রশ্ন: প্রথম কোথায় বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়?

উত্তর: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রসভায়।

প্রশ্ন: প্রথম কবে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয ?

উত্তর: ২ মার্চ, ১৯৭১।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের পতাকা কে প্রথম উত্তোলন করেন?

উত্তর: আ স ম আব্দুর রব।

প্রশ্ন: স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র কবে, কোথায় স্থাপন করা হয়?

উত্তর: চট্টগ্রামের কালুরঘাটে, ২৬ মার্চ, ১৯৭১।

প্রশ্ন: মুক্তিযুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন কারা?

উত্তর: ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট।

প্রশ্ন: মুক্তিযুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ কবে, কোথায় সংগঠিত হয়?

উত্তর: ১৯ মার্চ, ১৯৭১ গাজিপুরে।

প্রশ্ন: শেখ মুজিবুর রহমান কত তারিখে পাকিস্তানের কারাগার হতে মুক্তিলাভ করেন ?

উত্তর: ১০ জানুয়ারী ১৯৭২।

প্রশ্ন: ‘এ দেশের মাটি চাই, মানুষ নয়’- এ উক্তি কার?

উত্তর: জেনারেল ইয়াহিয়া খান।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার কবে গঠিত হয়েছিল?

উত্তর: ১০ এপ্রিল, ১৯৭১।

প্রশ্ন: বাংলাদেশকে প্রজাতন্ত্র ঘোষনা করা হয়েছিল কবে?

উত্তর: ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার কবে শপথ গ্রহন করেছিল?

উত্তর: ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের সদস্য সংখ্যা কত ছিল?

উত্তর: ৬ জন।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের রাজধানী কোথায় ছিল?

উত্তর: মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে।

প্রশ্ন: মুজিবনগরের পুরাতন নাম কি ছিল?

উত্তর: বৈদ্যনাথ তলার ভবের পাড়া।

প্রশ্ন: মুজিনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রি ছিলেন কে?

উত্তর: তাজউদ্দিন আহম্মেদ।

প্রশ্ন: মুজিনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?

উত্তর: সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

প্রশ্ন: মুজিনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?

উত্তর: শেখ মুজিবর রহমান।

প্রশ্ন: মুক্তিযুদ্ধের সময় কোন বিদেশী মিশনে বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয়?

উত্তর: ১৮ এপ্রিল, কলকতায়।

প্রশ্ন: শেখ মুজিব ছয় দফা কর্মসুচী কবে ব্যক্ত করেন?

উত্তর: ১৩ ফেব্রুয়ারী ১৯৬৬ সালে।

প্রশ্ন: আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয়?

উত্তর: জানুয়ারী, ১৯৬৮।

প্রশ্ন: মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ সরকারের সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান কে ছিলেন?

উত্তর: মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী

প্রশ্ন: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রথম শত্রুমুক্ত জেলার নাম কোনটি?

উত্তর: যশোর।

প্রশ্ন: মুজিবনগর সরকার কোন দেশে মিশন স্থাপন করেছিলো?

উত্তর: যুক্তরাজ্য।

প্রশ্ন: আত্মসমর্পনের পরে পাকিস্তানী দের যুদ্ধবন্দি হিসেবে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়?

উত্তর: ঢাকা সেনানিবাসে।

প্রশ্ন: কত মাস যুদ্ধের পরে বাঙালীর স্বাধীনতা অর্জিত হয়?

উত্তর: দীর্ঘ ৯ মাস।

প্রশ্ন: কে বৈদ্যনাথ তলার নাম মুজিব নগর রাখেন?

উত্তর: তাজউদ্দিন আহম্মেদ।

আরও দেখুনঃ

“মুক্তিযুদ্ধের রচনা । Essay on Liberation War । প্রতিবেদন রচনা ও সাধারণ জ্ঞান প্রশ্নোত্তর”-এ 1-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন