শব্দ দূষণ রচনা । Essay on Sound Pollution । প্রতিবেদন রচনা

শব্দ দূষণ রচনাঃ বিভিন্ন উৎস থেকে উৎপন্ন উচ্চ শব্দ যখন মানুষের সহনশীলতার সীমা অতিক্রম করে স্বাস্থের জন্যে ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায় তখন তাকে শব্দ দূষণ বলে।এই উচ্চ মাত্রার শব্দ স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর তাই এর দ্বারা পরিবেশ দূষিত হয়।

শব্দ দূষণ রচনা

শব্দ দূষণ রচনা । Essay on Sound Pollution
শব্দ দূষণ রচনা । Essay on Sound Pollution

ভূমিকা

পরিবেশের সাথে মানুষের নিবিড় সম্পর্ক। পরিবেশ হলো মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রধান মাধ্যম। কিন্তু মানুষ পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান অর্থাৎ বায়ু, পানি, মাটি ও শব্দকে বিভিন্নভাবে দূষণ করছে।

শব্দ দূষণ:

শব্দ দূষণ এ যুগের এক গুরুত্বপূর্ণ ও জলজ্যান্ত সমস্যা। দিন দিন এ সমস্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। শহরে শব্দ দূষণের মাত্রা সর্বাধিক। প্রতিনিয়তই এখানে মোটরগাড়ির হর্ন, কলকারখানার বিকট আওয়াজ, বাজি পটকার শব্দ, রেডিও, টেলিভিশনের শব্দ, লোকজনের চিৎকার চেঁচামেচি, উৎসবের মত্ততা, মাইকে চড়া সুর, সব মিলেমিশে এক অপস্বর সৃষ্টির মহাযজ্ঞ চলছে। শব্দ দূষণের পরিণাম ভয়াবহ।

শব্দ দূষণ রচনা । Essay on Sound Pollution
শব্দ দূষণ রচনা । Essay on Sound Pollution

শব্দ দূষণের উৎস অনেক এবং অনেক ধরনের। যথাযথ কারণ ছাড়া যত্রতত্র মাইক বা ক্যাসেট প্লেয়ার বাজানো বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে হর্ন বাজানো এবং হাইড্রোলিক হর্ন বাজানো আইনগতভাবে বন্ধ করতে হবে। আবাসিক এলাকায় যাতে কলকারখানা গড়ে উঠতে না পারে, তার ব্যবস্থা করতে হবে।

বন ও পরিবেশ আইন ১৯৯৭ অনুসারে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত এলাকাকে নীরব এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শব্দ দূষণ রোধে মানুষের সচেতনতা সবচেয়ে বেশি।

ঢাকা এখন শব্দ দূষণের নগর। ২০০৩ সালে দুই স্ট্রোকবিশিষ্ট অটোরিকশা ঢাকা শহর থেকে উঠিয়ে দেওয়ার পর বায়ু দূষণের পাশাপাশি শব্দ দূষণের মাত্রাও অপেক্ষাকৃত কমে যায়, ফলে নগরবাসী কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিল। কিন্তু তাদের সে স্বস্তি বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। শব্দ দূষণের ফলে যে অসুখ হয়, তার মেয়াদ দীর্ঘমেয়াদি হয় বলে মানুষ তৎক্ষণাৎ এর কুফল বুঝতে পারে না। তাই এদিকে মানুষের নজরও থাকে কম। এ কারণে ঢাকার আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—কোনো কিছুই রেহাই পাচ্ছে না যানবাহনের হাইড্রোলিক হর্ন, কারখানার উচ্চশব্দ, মাইক ও সিডি প্লেয়ারের উদ্দাম আওয়াজ থেকে।

শব্দ দূষণ রচনা । Essay on Sound Pollution
শব্দ দূষণ রচনা । Essay on Sound Pollution

শব্দ দূষণের ভয়াবহতা:

শব্দ দূষণ যে শুধু বিরক্তি সৃষ্টি করে তাই নয়, মানবদেহের আর্টারিগুলো বন্ধ করে দেয়, এড্রনালিনের চলাচল বৃদ্ধি করে এবং হূৎপিণ্ডকে দ্রুত কাজ করতে বাধ্য করে। ধারাবাহিক উচ্চ শব্দের মধ্যে থাকলে হার্টঅ্যাটাক ও স্ট্রোকের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, শব্দ দূষণ স্নায়বিক বৈকল্যের কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ধারাবাহিক শব্দ দূষণ শ্রবণশক্তি নষ্ট করে এবং স্নায়ুর স্থায়ী ক্ষতি সাধন করে। তাঁদের মতে, রাজধানীতে বসবাসকারী মানুষের হার্ট, কিডনি ও ব্রেনের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। শব্দ দূষণে শিশুদের মেজাজ হচ্ছে খিটখিটে। তারা শ্রবণশক্তি হারাচ্ছে, হারাচ্ছে তাদের একনিষ্ঠতা।

এর প্রভাব তাদের লেখাপড়ার ওপর পড়ছে। সব ধরনের শব্দ দূষণের ফলেই মানুষের ঘুম, শ্রবণশক্তি, মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। যেকোনো ধরনের শব্দ দূষণই গর্ভবতী মায়েদের ক্ষতি করে দারুণভাবে। শব্দ দূষণে মানুষের স্থায়ী মানসিক বৈকল্য দেখা দিতে পারে।

শব্দদূষণের প্রতিকার

শব্দদূষণের হাত থেকে বাঁচতে হলে চাই সকলের সচেতনতা। শব্দ দূষণের কারণগুলো বের করে তা প্রতিরোধ করা জরুরি। যতটুকু সম্ভব উচ্চশব্দ পরিহার করা। গাড়ির হর্নকে স্বাভাবিক করা।

শব্দ দূষণ রচনা । Essay on Sound Pollution
শব্দ দূষণ রচনা । Essay on Sound Pollution

উপসংহার

সুস্থভাবে বেশি দিন বেঁচে থাকার জন্য শব্দদূষণমুক্ত পরিবেশ গড়া সবারই কর্তব্য। তাই সবাই সচেতন হলে শব্দদূষণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

আরও পড়ুনঃ

মন্তব্য করুন