শ্রীকৃষ্ণকীর্তন । মধ্যযুগের প্রথম সাহিত্যিক নিদর্শন । প্রতিবেদন রচনা

মধ্যযুগের প্রথম সাহিত্যিক নিদর্শন হল বডু চণ্ডীদাসের ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’। ষোড়শ শতাব্দী তে বা তার আগে বৈষ্ণব সাহিত্যে যে প্রসার তার প্রথম অংকুর এই শ্রীকৃষ্ণকীতন কাব্য।শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বডু চণ্ডীদাস নামক জনৈক মধ্যযুগীয় কবি রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রণয়কথা বিষয়ক একটি আখানকাব্য।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন । মধ্যযুগের প্রথম সাহিত্যিক নিদর্শন

 

কৃষ্ণের জন্ম, বৃন্দাবনে রাধার সঙ্গে  যার প্রণয় এবং অন্তে বৃন্দাবন ও রাধা উভয়কে ত্যাগ করে কৃষ্ণের চিরতরে মথুরায় অভিপ্রয়াণ – এই হল ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের মূল উপজীব্য। আখ্যানভাগ মোট তেরটি খ্ণ্ডে বিভক্ত। পুথিটি খণ্ডিত বলে কাব্যচর্চার তারিক জানা যায় না।তবে কাব্যটি  আখ্যান ধর্মী ও সংলাপের আকারে রচিত বলে প্রাচীন বাংলা নাটকের একটি আভাস মেলে এই কাব্যে। গ্রন্থহি স্থানে স্থানে আদিরসে জারিতও গ্রাম্য অশ্লীলতাদোষে দুষ্ট হলেও  আখ্যানভাগ বর্ণনানৈপূূর্ণ  ও চরিত্র চিত্রণে মুন্সিয়ানা আধুনিক পাধকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

চর্চাপদের পর ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ বাংলা ভাষার দ্বিতীয় প্রাচীনতম আবিষ্কৃত নিদর্শন। বাংলা ভাষাতত্ত্বের  ইতিহাসে এর গুরুত্ব তাই অপরিসীম। অপর দিকে এটিই প্রথম বাংলায় রচিত কৃষ্ণকথা বিষয়ক কাব্য। মনে করা হয়, এই গ্রন্থের পথ ধরেই বাংলা সাহিত্যে বৈষ্ণব পদাবলির পথ সুগম হয়।

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার  ডক্টর অসিতকুমার বন্দোপাধ্যায় যথাতই লিখেছেন , “ জয়দেব ও ভারতচন্দ্রকে বাদ দিলে এ ধরনের কাব্য সমগ্র পূর্বভারতেই  আর পাওয়া যাবে না ।বোধ হয় সে কালের শ্রোতারা এই পাচালি গানে বাস্তবতার সাথে কিছু অধ্যাত্ম বাঞ্জনাও  লাভ করত। কিন্তু আধুনিক কালের পাঠক এ কাব্যের প্রতখ আবরণ অধিকতর আনন্দের সাথে আস্বাদন করবেন।

রাধাকৃষ্ণলীলায় কিছু উত্তাপ ছিল, জয়দেবের সেই গীতগোবিন্দে সেই উত্তাপ সঞ্চারিত হয়েছে  শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে, সে উত্তাপ ‘অভিনব জয়দেব ’বিদ্যা পতির পদে কিছু স্ফুলিঙ্গ বর্ষণ করেছে। ভারতচন্দ্র সেই উত্তাপকে কামনার পঞ্চপ্রদীপ জালিয়ে নর নারীর  প্রণয় চর্চাকে আলোকিত করেছেন। দেহের এই রহস্য চৈতন্য ও উত্তর—চৈতন্যযুগের বৈষ্ণব পদাবলীতে উত্তাপ হারিয়ে স্থির দীপশিখায় পরিণত হয়েছে।”

পুথি আবিষ্কার ও সম্পাদনা:

১৯০৯ সালে বাাঁকুডা জেলার বেলিয়তোড় গ্রামের বাসিন্দা রঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ প্রাচীন পুথির অনুসন্ধান করতে গিয়ে ঐ জেলারই বিষ্ণুপুর  শহরের নিকটবর্তী কাকিলা গ্রামের জনৈক দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে প্রথম কীর্তন কাব্যের পুথি আবিষ্কার করেন । তার গোয়ালঘরের মাচায় এই পুথিটি তুলে রাখা ছিল।

দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ছিলেন বনবিষ্ণুপুরের  রাজগুরু শ্রীনিবাস আচাযের দৌহিত্র বংশধর। পুথিটির সঙ্গে প্রাপ্ত চিরকুটটি থেকে জানা যায় আড়াই শত বছর আগে বিষ্ণুপুরের ‘থাঘর’ অর্থাৎ রাজগ্রন্থশালায় এটি রাখা ছিল। আদান্ত খণ্ডিত অবস্থায় প্রাপ্ত  এই পুথিটি তুলোট কাগজে লিখিত এবং এতে তিন প্রকার প্রকার দেখা যায় – প্রাচীন লিপি, প্রাচীন লিপির হুবহু অনুকরণ লিপি ও পরবর্তী কালের লিপি।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন । মধ্যযুগের প্রথম সাহিত্যিক নিদর্শন

পুথির প্রথম দু্টি পাতা, কয়েকটি ও শেষ পাতা পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ২৪৩/১ আচায প্রফুল্লচন্দ্র রায় রোডস্থ বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ পুঁথিশালায় এটি রক্ষিত আছে। বসন্ত রঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ  মহাশয় ১৯১৬ খিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ শিরোনামে পুথিটি সম্পাদনা করেন এবং ঐ বছরেই উক্ত প্রতিশধান সেটি প্রকাশ করেন। তিনি গ্রন্থের নাম দেন  ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’। বসন্ত রঞ্জন রায় ও রাখালদাস বন্দোপাধ্যায় দুজনে মিলে প্রাপ্ত পুথির লিপি বিচার করে বডু চন্ডীদাস কে আদিতম চন্ডীদাস হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

পুথি পরিচয়ঃ

কবির নাম বডু চন্ডীদাস। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন এর মোট পদের সংখ্যা ৪১৮ । পুথিখানি  বাংলা তুলোট কাগজে উভয় পৃষ্ঠায় লেখা। পুথিটির ভিতরের কয়েকটি পৃষ্ঠা নষ্ট হয়ে গেছে। রচনাকারের ভনিতা ছাড়া  যার সম্বন্ধে  অন্য কোন পরিচয় পুথিতে নেই।  পুথিতে  আখ্যাপত্র ও পুষ্পিকা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাই গ্রন্থের নাম রচনাকাল পুথি নকলের তারিক কিছুই জানা যায় নি।

পুথিটি  বনবিষ্ণুপুরের রাজগ্রন্থাগারে রক্ষিত ছিল । শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে মোট তেরটি খ্ন্ড আছে–জন্ম খ্ন্ড, তাম্বুল খ্ন্ড, দান খ্ন্ড, নৌকা খ্ন্ড, ভারখ্ন্ড,ছত্র খ্ণ্ড, বৃন্দাবন খ্ণ্ড, কালিওদমন খ্ণ্ড, যমুনা খণ্ড ,হার খ্ন্ড, বাণখ্ন্ড, বংশী খ্ণ্ড, রাধাবিরহ । শ্রীকৃষ্ণকীতনে সংস্কৃত শ্লোক এর সংখ্যা ১৬১ । শ্রীকৃষ্ণকীতনে মোট ৩২ টি  রাগরাগিণী উল্লেখ আছে। পাহারিয়া রাগ যুক্ত পদের সংখ্যা সর্বাধিক ৫৭।

নামকরণ:

বিদ্বদ্বল্লভ  মহাশয় ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ শিরনামে গ্রন্থটি সম্পাদনা ও প্রকাশ করলেও, এই গ্রন্থের ‘শ্রীকৃষ্ণকীতন’ নামকরণ নিয়ে যথেষ্ট মতবিরোধ আছে। প্রাচীন পুথিগুলোতে  সচরাচর প্রথম বা শেষ  পাতায় পুথির নাম লেখা আছে। কিন্তু ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ পুথির ক্ষেত্রে এই দুটি গুরুত্বপূণ পৃষ্ঠা পাওয়া যায়নি। ফলে পুথির নামও  অজানাই থেকে যায়।এমনকি পরবরতিকালের  কোন পুথিতে বডু চণ্ডীদাস বা তার গ্রন্থের  কোন উল্লেখ পাওয়া যায় না। বিদ্বদ্বল্লভ  মহাশয় তাই নামকরন কালে পুথির কাহিনি বিচার করে লোক ঐতিহ্যের এটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন। যার বক্তব্য হল-

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন । মধ্যযুগের প্রথম সাহিত্যিক নিদর্শন

“ পুথির আদ্যান্তহীন খন্ডিতাংশে কবির দেশকালাদির  কথা দূরে থাকুক,  পুথির নাম পর্যন্ত পাওয়া যায় নাই। কথিত হয় , চণ্ডীদাস কৃষ্ণকীর্তন কাব্য রচনা করেন। খেতরির এক বার্ষিক উৎসবে চণ্ডীদাসের কৃষ্ণলীলা গীত হইয়াছিল, অবশ্য কীতনআঙ্গে। আলোচ্য পুথির প্রতিপাদ্য যে শ্রীকৃষ্ণের লীলা কীর্তন , তাহাতে তর্কের অবসর নাই। অতএব গ্রন্থের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন নামকরণ অসমীচী্ন নয়।”

গ্রন্থপ্রকাশের প্রায় ১১ বছর পর সাহিত্য পরিষৎ পত্রিকায় রমেশ বসু সম্ভবত ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের নামকরণকেন্দ্রিক বিতর্কের সূত্রপকে ঘটান। এরপর বাংলা সাহিত্যের  সারস্বত সমাজ এ-নিয়ে তুমুল তর্কবিতর্ক উপস্থিত হয়। যারা ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ নামকরণের বিরোধী ছিলেন , তাদের যুক্তি ছিল দ্বিমুখী । প্রথমত, ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ একটি আদিরসাত্মক অশ্লীল কাব্য – এতে  শ্রী বা কীর্তন কোনটিই উপস্থিত নেই । দ্বিতীয়ত, পুথির সঙ্গে যে চিরকুট টি পাওয়া যায়, তাতে  ‘শ্রীকৃষ্ণ সন্দব্ব’ বলে একটি কথা লিখিত আছে। অনেকেই মনে করেন গ্রন্থের মূল নাম ‘শ্রীকৃষ্ণসন্দভ’। প্রথম যুক্তিটি  আধুনিক কাব্য বিচারের দৃষ্টিতে খুবই দুর্বল ; কিন্তু আধুনিক গবেষকগণ দ্বিতীয় দাবিটি প্রসঙ্গে সন্দিহান। এই কারনে অসিতকুমার বন্দোপাধ্যায়
প্রস্তাব করেছেন—

“ যতদিন শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের যথার্থ নাম আবিষ্কৃত না হচ্ছে ততদিন
সম্পাদক বসন্ত রঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ প্রদত্ত এই নামটিই  স্বীকার
করতে হবে”।

আবার বিমানবিহারী মজুমদার আপত্তি জানিয়ে  শ্রীকৃষ্ণকীর্তন নামকরণ করেন  ‘রাধাকৃষ্ণের ধামালি ’। তিনি মনে করেন  শ্রীকৃষ্ণকীর্তন এর  নামকরণ রাখা যেন ‘ কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন ’।

মোহাম্মদ শহিদুল্লাহের মতে প্রাপ্ত চিরকুটে নাম  শ্রীকৃষ্ণসন্দভ ও  মুদ্রিত শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের নাম অভিন্ন ।

রচনাকাল:

বসন্ত রঞ্জন রায় আবিষ্কৃত পুথির মধ্যে যে চিরকুট পাওয়া গেছে তাতে  ১০৮৯ সনের উল্লেখ আছে । লিপি বিশারদ  রাখালদাস বন্দোপাধ্যায় ১৩১৮ সালে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন লিপি পরীক্ষা করেন এবং এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে  শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে পঞ্চদশ শতাব্দীর অন্তে  বা তার নিকটবর্তী সময়ে অনুলিখিত হয় থাকবে ।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন । মধ্যযুগের প্রথম সাহিত্যিক নিদর্শন

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ভাষার  প্রাচীনতম সূত্র ধরে  চর্চাপদ এর পরে বাংলা ভাষায়  আর এমন প্রাচীন পুথি আর নেই। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে সমর্থন করে  বলা যায় বডু চণ্ডীদাস  ‘ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথমভাগে রচিত হয়েছিল।

কৃষ্ণদাস কবিরাজ শ্রীচৈতন্যচরিতামিতে উল্লেখ করেছেন যে শ্রীচৈতন্য চন্ডীদাস আস্বাদন করতেন তাই চৈতন্য আবির্ভাবের পূর্বে  এই গ্রন্থ নিশ্চয়ই রচিত হয়েছিল।

বডু চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে মধ্যযুগের আদি পর্বের ভাষার  লক্ষণ দেখা যায়।

কবি পরিচয়:

শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে ৪১৫টি  পদের মধ্যে  বডু চণ্ডীদাসের ভনিতা আছে ৪৩ বার। ভনিতা গুলি যে নামে পাওয়া যায়—বডু চন্ডীদাস, চন্ডীদাস, অনন্ত বডু চন্ডীদাস। এর ফলেই সৃষ্টি হয়েছে চন্ডীদাস সমস্যা। কেউ মনে করেন কবির নাম  ‘অনন্ত’ চন্ডীদাস যার উপাধি।কিন্তু ভনিতায় তিনি শুধু অনন্ত ব্যবহার করেন নি তাই বডু চন্ডীদাস আসল নাম। বডু চন্ডীদাস ছিলেন  বাসুলির সেবক। তার বাড়ি ছিলেন বীরভূম জেলার নানুর গ্রামে। রামি নাম্নী এক রাজকন্যা ছিলেন তার জীব্ন সঙ্গী। চণ্ডীদাসের অনেক পদ রামীর উল্লেখ  রয়েছে, রামীর ভনিতাতেও কিছু কিছু পদ পাওয়া গিয়েছে।

গুরুত্বসম্পাদনা

চর্চাপদের পর ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ আদি —মধ্য বাংলা ভাষার   প্রাচীনতম আবিষ্কৃত নিদর্শন। বাংলা ভাষাতত্ত্ব এর ইতিহাসে  এর গুরুত্ব তাই অপরিসীম। অপরদিকে  এটিই প্রথম বাংলা ভাষায় রচিত কৃষ্ণকথা বিষয়ক কাব্য। মনে করা হয়, এই গ্রন্থের পথ ধরেই পরবর্তী বাংলা সাহিত্য  বৈষ্ণব পদাবলীর পথ সুগম হয় ; তবে এই কাব্যের ভাব বৈষ্ণব— মহান্তদের নির্দেশিত কৃষ্ণলীলার ভাব বাঞ্জনার সঙ্গে মেলে না। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার ডক্টর অসিতকুমার বন্দোপাধ্যায় যথাথই লিখেছেন,

“ জয়দেব ও ভারতচন্দ্রকে বাদ দিলে এ ধরনের কাব্য সমগ্র পূর্বভারতেই  আর পাওয়া যাবে না ।বোধ হয় সে কালের শ্রোতারা এই পাচালি গানে বাস্তবতার সাথে কিছু অধ্যাত্ম বাঞ্জনাও  লাভ করত। কিন্তু আধুনিক কালের পাঠক এ কাব্যের প্রতখ আবরণ অধিকতর আনন্দের সাথে আস্বাদন করবেন।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন । মধ্যযুগের প্রথম সাহিত্যিক নিদর্শন

রাধাকৃষ্ণলীলায় কিছু উত্তাপ ছিল, জয়দেবের সেই গীতগোবিন্দে সেই উত্তাপ সঞ্চারিত হয়েছে  শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে, সে উত্তাপ ‘অভিনব জয়দেব ’বিদ্যা পতির পদে কিছু স্ফুলিঙ্গ বর্ষণ করেছে। ভারতচন্দ্র সেই উত্তাপকে কামনার পঞ্চপ্রদীপ জালিয়ে নর নারীর  প্রণয় চর্চাকে আলোকিত করেছেন। দেহের এই রহস্য চৈতন্য ও উত্তর—চৈতন্যযুগের বৈষ্ণব পদাবলীতে উত্তাপ হারিয়ে স্থির দীপশিখায় পরিণত হয়েছে।”

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যে অন্ধকার যুগ চলে আসছিল সেই যুগের অবসান ঘটিয়েছিল এই শ্রীকৃষ্ণকীতন কাব্য । যা একদিকে যেমন আদি-মধ্য যুগের বাংলা সাহিত্যের একমাত্র নিদর্শন হিসেবে আমাদের বাংলা সাহিত্য কে সমৃদ্ধ করেছে তেমনি অন্যদিকে চযাপদ  পরবর্তী কালীন বাংলা ভাষা বিবর্তনের দিককেও নির্দেশ করেছে। তাই বলা যায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এই গ্রন্থের গুরুত্ব  অপরিসীম।

আরও দেখুনঃ

 

মন্তব্য করুন